টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে পানি, লক্ষ্মীপুরে পানিবন্দি লাখো মানুষ
টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে পানি, লক্ষ্মীপুরে পানিবন্দি লাখো মানুষ
টানা ভারি বর্ষণে লক্ষ্মীপুরের পাঁচটি উপজেলায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় জলাবদ্ধতা ক্রমেই বাড়ছে। তবে এখনো সরকারি কিংবা বেসরকারি সহায়তা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল থেকে লক্ষ্মীপুরের পালেরহাট, রাখালিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে বন্যার এমন চিত্র দেখা গেছে। কমলনগর উপজেলার চরলঞ্চের চর পাগলা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে থাকলেও কেউ তাদের দেখতে আসেননি।
চর পাগলা গ্রামের বাসিন্দারা আরো জানান, প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের ৫ হাজার লোক পানিবন্দি অবস্থায় আছে। রান্নাঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় তারা রান্না করতে পারছেন না। পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে। জনপ্রতিনিধিদের দেখা না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্ছানগর এলাকায় অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টি হলে শত শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
রামগঞ্জ পৌরশহরের বাসিন্দারা জানান, বিরেন্দ্র খালের পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় আশপাশের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর ফলে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রামগতি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে লক্ষ্মীপুরে ৩১২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি দুই বা এক দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানা গেছে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, টানা বর্ষণ ও জোয়ারে জেলার নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ও শত শত হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, চলমান বন্যায় ১৭ হাজার ৫০০ পুকুর-জলাশয়ের ৩ হাজার মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। এতে ৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় আমন ধানের বীজতলা, আউশ ধান ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান জানান, প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা পানিবন্দি এলাকায় কাজ করছেন। তারা শুকনো খাবার বিতরণ করছেন এবং মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছেন।










