সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরার পর নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কয়েকটি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় আত্রাইয়ের মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে নিহতদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। জুমার নামাজের পর পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
কিছুক্ষণের জন্য কফিনের মুখ খোলা হলে স্বজনেরা শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
গণ্ডগোহালী গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, নিহতরা সবাই পরিবারের উপার্জনের প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো আর্থিকভাবেও ভেঙে পড়েছে।
নিহত মোহন ও সুমনের মা ময়না খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে দুটো বলত, মা আর কয়েকদিন পরেই দেশে ফিরব। তোমাকে নিয়ে সুখে থাকব। আমার দুনিয়া থেকে সবকিছুই চলে গেল।’
নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে মরদেহগুলো দেশে আসে। পরে রাত দেড়টার দিকে মরদেহবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে সেগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছায়।
নিহতরা হলেন—মো. ফরিদ, রুবেল প্রামাণিক, মোহন আলী, সুমন আলী, কলিমুদ্দিন, সোহেল রানা ও আব্দুল জলিল সরদার।




