মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত তীব্র হওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ‘পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে দেশটি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনটি দ্রুত সচল করা না গেলে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে থাকা তেলের মজুত কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠায়। যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। পাইপলাইনটি দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালির ওপর সৌদি আরবের নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।
শিল্পসংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের তথ্যমতে, পাইপলাইন বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে বর্তমানে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালু রাখার মতো তেল মজুত রয়েছে। সৌদি আরবের আরও কিছু তেল মজুত রয়েছে মিশরের আইন সুখনা ও সিদি কেরির বন্দরে। তবে এসব মজুতও পূর্ণ নয় এবং পাইপলাইন সচল না হলে দ্রুত কমে যেতে পারে।
পাইপলাইন মেরামতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে আরেকটি সূত্র বলছে, তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে মেরামত শেষ করে কাজ চলাকালীন আংশিকভাবে তেল সরবরাহ চালু করা সম্ভব হতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি আরবের তেল সরবরাহ গত আগস্টে তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৬ শতাংশ কমতে পারে।
এর মধ্যে লোহিত সাগরের মোহনায় একটি কৌশলগত দ্বীপ হুতি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার খবরও এসেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ আরও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংঘাত শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হতো। তবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দৈনিক ৬০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ফলে সৌদি আরবের পাইপলাইন সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।









