দেশের ব্যাংক খাতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা তিন মাসে ৫ হাজারেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে এসব হিসাবে জমা অর্থ বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে কোটি টাকার হিসাব বাড়লেও তাদের জমা অর্থ কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য বলছে, জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। মার্চ শেষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ তিন মাসে বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি হিসাব।

জুন শেষে এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। মার্চ শেষে যা ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। ফলে তিন মাসে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোতে অর্থ বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

তবে ব্যক্তি শ্রেণির হিসাবে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। জুন শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা ব্যক্তি হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৭০১টি। এসব হিসাবে জমা ছিল ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। মার্চ শেষে ব্যক্তি শ্রেণির এমন হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৬৩০টি এবং আমানত ছিল ৯১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।

অর্থাৎ তিন মাসে ব্যক্তি পর্যায়ে কোটি টাকার হিসাব ৭১টি বাড়লেও এসব হিসাবে জমা অর্থ কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে গতি কমেছে।

ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে হাতে থাকা অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে জমা রাখছে। চলতি মূলধন, ব্যবসায়িক লেনদেনের অর্থ এবং সাময়িকভাবে অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা বাড়ায় প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবগুলোতে বড় অঙ্কের আমানত জমা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে। এর ফলে ব্যক্তি শ্রেণির কোটি টাকার হিসাবে আমানত কমলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিকভাবে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ও জমা অর্থ—দুটিই বেড়েছে।