শিক্ষা ও ক্যাম্পাস

মিশরের আন্তর্জাতিক বই মেলায় রাবি সাবেক শিক্ষার্থীর থিসিস পেপার

মিশরের আন্তর্জাতিক বই মেলায় রাবি সাবেক শিক্ষার্থীর থিসিস পেপার
ছবি: সংগৃহীত

মিশরের আন্তর্জাতিক বই মেলায় রাবি সাবেক শিক্ষার্থীর থিসিস পেপার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল মতিন-এর ২০১১ সালের এমএ থিসিস পেপারটি এখন কায়রো আন্তর্জাতিক বই মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে। ২০১৯ সালে বৈরুতের ‘দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ্’ প্রকাশনী থেকে বই আকারে প্রকাশিত এ থিসিস পেপারটি এখন কায়রো মেলায় বিক্রি হচ্ছে।

মিশরের কায়রো আন্তর্জাতিক বই মেলা থেকে বইটি কিনে অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষার শিক্ষার্থী ইউসুফ আমীন। তিনি বলেন, “কিনলাম, অনেক ভালো লাগলো, টানা ৬৮ পৃষ্ঠা একটানে পড়ে ফেলেছিলাম, অনেক বেশি ভালো লাগছে তাই সংগ্রহ করে নিলাম।”

আব্দুল মতিন-এর এই গবেষণা কর্মের বাংলা শিরোনাম হলো ‘প্রাক ইসলামি যুগের কবিতার উন্নয়নে ভবঘুরে ও ডাকু কবিদের অবদান’। বইটির মূল বিষয় হল, প্রাক-ইসলামী যুগের কবিতায় ভবঘুরে এবং ডাকু কবিদের ভূমিকা এবং তাদের সাহিত্যকর্মের গুরুত্ব। এই গবেষণাপত্রটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের এমএ পরীক্ষার সনদ অর্জনের জন্য দাখিলকৃত ছিল। বইটির সুপারভাইজার ছিলেন উক্ত বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুস সালাম।

থিসিস পেপারটি বৈরুতের দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ্ প্রকাশনী থেকে ৩০ এপ্রিল ২০১৯ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয় এবং কায়রো আন্তর্জাতিক বই মেলায় বৈরুতের এ প্রকাশনীর এজেন্ট হিসেবে ‘দারুল বয়ান আল আরাবী’ প্রকাশনীতে রাখা হয়েছে।

এবারের কায়রো আন্তর্জাতিক বই মেলায় মোট ৮০টি দেশ এবং ১৩৪৫টি প্রকাশনী অংশগ্রহণ করছে। এ বইটি আরব বিশ্বের পাঠকদের কাছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর আরবি বিভাগকে আরও বেশি পরিচিতি দিচ্ছে, যা এর লেখক আব্দুল মতিনের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

আব্দুল মতিন তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “কায়রোর মতো আন্তর্জাতিক বইমেলায় আমার এমএ পরীক্ষার থিসিস পেপারটি পাওয়া যাচ্ছে দেখে আমি অত্যন্ত খুশি, আল-হামদুলিল্লাহ।

এশিয়ার বৈরুত থেকে প্রকাশ পেয়ে এখন আফ্রিকার কায়রোতে বইটি প্রদর্শিত হচ্ছে। আমি আরব বিশ্বে ঘুরতে না পারলেও আমার বই আরববিশ্বের অফলাইন এবং অনলাইন বাজারে রয়েছে, এটি আমার জন্য একটি বিশাল অর্জন। আমি আশা করি এটি আমার প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমার প্রিয় আরবি বিভাগকে আরব বিশ্বের কাছে আরও পরিচিত করবে।”

এছাড়া, আব্দুল মতিন এর আগে কওমি মাদরাসায় লেখাপড়ার পাশাপাশি ২০০৪ সালে পার্বতীপুরের রোস্তমনগর দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল এবং ২০০৬ সালে সরকারি মাদরাসা-ই-আলিীয়া ঢাকা থেকে আলিম পরীক্ষায় এ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ২০০৬-২০০৭ সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তি হয়ে অনার্সে সিজিপিএ ৩.৫৬ পেয়ে প্রথম স্থান এবং মাস্টার্সে থিসিস গ্রুপ থেকে সিজিপিএ ৩.৭৮ পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

তার লেখনী শুধু আরবি সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি ইসলামি ব্যাংকিং, ধর্ম, জীবন এবং অন্যান্য বিষয়েও ত্রিশটিরও অধিক প্রবন্ধ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন এবং অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তার একাধিক বই প্রকাশিতব্য। ইতোমধ্যে "স্পিক স্মার্টলি" ও "ছোটদের হাদীস পাঠ বই" প্রকাশিত হয়েছে।

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর...

রাবিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে রাবিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

আমরা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’

শিক্ষা ও ক্যাম্পাস