ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গাঁজা প্রস্তুতের সময় দুই শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটকের ঘটনায় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে চারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ক্যাম্পাসসংলগ্ন অবৈধ বসতি ও স্থাপনা উচ্ছেদের সুপারিশ, ভ্যানচালকদের ডাটাবেজ তৈরি এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ যানবাহনের কাগজপত্র জমা নেওয়া।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গাঁজাসহ আটক দুই শিক্ষার্থীর দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফোকলোর অ্যান্ড সোস্যাল স্টাডিজ বিভাগের আরও তিন শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতিসহ প্রক্টর কার্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে।
এ ছাড়া ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সরকারি অবৈধ বসতি ও স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পাসে নিয়মিত চলাচলকারী ভ্যানচালকদের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজ তৈরির পাশাপাশি তাদের আইডি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে নিরাপত্তাকর্মীদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরে চলাচলকারী মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের লাইসেন্সের কপি আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রক্টর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বসেছি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার স্বার্থে চারটি নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে বসে তাদের শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গাঁজা প্রস্তুতের সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। আটক শিক্ষার্থীরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুফিয়ান সালাফী ও হাসানুজ্জামান। পরে তাদের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।









