ই
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টের দুটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে একই দিনে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে পৃথক দুটি ম্যাচ চলাকালে এসব ঘটনা ঘটে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন।
জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের মধ্যকার ম্যাচে প্রথম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল ৩টার দিকে ফার্মেসি ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ম্যাচেও শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইন হওয়ার পর হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর বল আনতে গেলে দর্শক সারিতে থাকা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
দ্বিতীয় ম্যাচে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গোলরক্ষককে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্লেজিংকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
দুই ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের হুমায়ুন কবির; হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের মশিউর, আলিফ খান, আলিফ রাহাত, তোফাজ্জল ও রায়হান; ফার্মেসি বিভাগের তৌহিদ ও বাঁধন এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রত্যয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আলিফ খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রথম ঘটনার বিষয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইন হওয়ার পর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বল দূরে ছুড়ে দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মশিউরকে মারধর করা হয় এবং পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, বলটি দিতে গেলে সেটি অন্য এক শিক্ষার্থীর পায়ে লেগে কিছুটা দূরে চলে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মশিউরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীরাই প্রথমে হামলা চালান বলে দাবি করেন তারা।
আহত হুমায়ুন কবির বলেন, “বল নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমাকে পেছন থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকজন মিলে মাথা ও মুখে আঘাত করে। এতে আমার মুখ ও দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
দ্বিতীয় ম্যাচের বিষয়ে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, “খেলার সময় স্লেজিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আমাদের এক জুনিয়রকে ধাক্কা দেওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।”
অন্যদিকে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তৌফিক অভিযোগ করেন, “স্লেজিং করতে করতে একপর্যায়ে গালাগালি শুরু হয়। আমাদের সিনিয়ররা আপত্তি জানালে ফার্মেসি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ধাক্কাধাক্কি ও মারধর শুরু করেন।”
আহত প্রত্যয় বলেন, “একসঙ্গে অনেকেই আমাকে মারধর করেছে। শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছি না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডা. বদিউজ্জামান বলেন, আহত কয়েকজন শিক্ষার্থী মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে একজনের মাথা এবং আরেকজনের ঠোঁট কেটে যাওয়ায় সেলাই দিতে হয়েছে।
ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. জাকিয়া আক্তার বলেন, “প্রত্যয়ের আঘাত গুরুতর মনে হয়নি। তবে সে আতঙ্কিত থাকায় তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, “অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টের সব খেলা স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”









