রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদনে সহযোগিতার জন্য ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কলেজে হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হয়। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে এসে অবস্থান নেন এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। পরে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী ছাত্রদলের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে পদ্মা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদ হাসান, কলেজের দায়িত্বশীল নাহিদ এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান আহত হন। অন্যদিকে, ছাত্রদলের দুজন নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রশিবিরের শাহমখদুম থানা সভাপতি মো. তানভির মাহতাব বলেন, ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য তারা তিন দিন ধরে কলেজে হেল্পডেস্ক পরিচালনা করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে হেল্পডেস্কের ব্যানার টাঙানোর পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেটি ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, পদ্মা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তারা তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ছাত্রদলের ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে এবং তাদের দুজন আহত হন।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির বলেন, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য পদ্মা সরকারি কলেজে তাদের হেল্পডেস্ক চলছিল। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে হেল্পডেস্কে হামলা করে ব্যানার ছিঁড়ে পুড়িয়ে দেয় বলে দাবি করেন তিনি। এতে ছাত্রশিবিরের তিনজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সংঘর্ষের পর কলেজ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নেন।