বিনোদন

নেত্রকোনায় শায়িত হবেন কবি হেলাল হাফিজ

নেত্রকোনায় শায়িত হবেন কবি হেলাল হাফিজ
ছবি: সংগৃহিত

নেত্রকোনায় শায়িত হবেন কবি হেলাল হাফিজ

দ্রোহ ও প্রেমের কবি হেলাল হাফিজ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।

আগামীকাল শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় প্রেসক্লাবে কবির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাংলা একাডেমিতে আরেকটি জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় দাফন করা হবে।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে, এদিন দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের সুপার হোস্টেলের ওয়াশরুমের দরজা খুলে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন হোস্টেলের অন্যান্যরা। ওয়াশরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। এরপর বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানী শাহবাগে অবস্থিত সুপার হোমের বাথরুমে পড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয় হেলাল হাফিজের। কর্তৃপক্ষ তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, হেলাল হাফিজ দীর্ঘদিন ধরে গ্লুকোমায় আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস ও স্নায়ু জটিলতায় ভুগছিলেন।

হেলাল হাফিজ ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। নেত্রকোনা শহরে কেটেছে কবির শৈশব, কৈশোর ও প্রথম যৌবন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র তিনি।

১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় রচিত ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি তাকে কবিখ্যাতি এনে দেয়। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’। ৩৪ বছর পর যুগপৎ ঢাকা ও কলকাতা থেকে প্রকাশ হয়েছে ৩৪টি কবিতা নিয়ে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’।

পিতা খোরশেদ আলী তালুকদার ও মাতার কোকিলা বেগম। ১৯৬৫ সালে নেত্রকোনা দত্ত হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৭ সালে নেত্রকোনা কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাস করেন। ওই বছরই কবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি গ্রহণ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৭২ সালে তিনি তৎকালীন জাতীয় সংবাদপত্র দৈনিক পূর্বদেশে সাংবাদিকতায় যোগদান করেন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন দৈনিক পূর্বদেশের সাহিত্য সম্পাদক। ১৯৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি দৈনিক দেশ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক যুগান্তরে কর্মরত ছিলেন। তার কবিতা সংকলন ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়। ওই গ্রন্থটির ১২টি সংস্করণ প্রকাশিত হলেও এরপর গ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তার নিঃস্পৃহতা দেখা যায়।

২৬ বছর পর ২০১২ সালে আসে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা একাত্তর’। তার অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’। এ কবিতার দুটি পংক্তি ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ বাংলাদেশের কবিতামোদী ও সাধারণ পাঠকের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়ে থাকে।

দেরিতে হলেও ২০১৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

এছাড়াও কবিতার জন্য পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বৈশাখী মেলা উদযাপন কমিটির কবি সংবর্ধনা (১৯৮৫), যশোহর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৬), আবুল মনসুর আহমদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৭), নেত্রকোনা সাহিত্য পরিষদের কবি খালেদদাদ চৌধুরী পুরস্কার ও সম্মাননা প্রভৃতি।

এ সম্পর্কিত আরও

অস্কারের দৌড়ে বাংলাদেশের পাঁচ সিনেমা

অস্কার অস্কারের দৌড়ে বাংলাদেশের পাঁচ সিনেমা

বিনোদন

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩২ পিএম

হঠাৎ কেন বিটিভির লোগো বদলের উদ্যোগ?

বাংলাদেশ টেলিভিশন হঠাৎ কেন বিটিভির লোগো বদলের উদ্যোগ?

বিনোদন

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:২৪ পিএম

রাবির গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র 'চিরকুট, প্রকাশ পাবে ৭ দেশে

রাবির গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র 'চিরকুট, প্রকাশ পাবে ৭ দেশে

বিনোদন

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৫ এএম

তথ্যমন্ত্রী হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ

তথ্যমন্ত্রী হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ

বিনোদন

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৮ পিএম