ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন ও ঘন ধোঁয়ার মধ্যে রোগী ও স্বজনরা দ্রুত বের হতে গিয়ে পদদলিত হন।

এতে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় থাকা লিফট কন্ট্রোল রুমের বোর্ডে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে শিশু ওয়ার্ড, সিসিইউ ও আইসিইউসহ ভবনের বিভিন্ন তলায়। এ সময় আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনরা নিচে নামতে শুরু করেন। স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটি তালাবদ্ধ থাকায় মাত্র একটি সিঁড়ি দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ নামার চেষ্টা করেন। এতে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং পদদলনের ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানের বরাতে শিশুসহ ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দার কুলসুমা (৩৫)। এ ছাড়া আনুমানিক এক বছর বয়সী এক অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন হতাহতের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার পর রাতে বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, পদদলিত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, লিফট কন্ট্রোল রুমের বোর্ডে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের পাশাপাশি ঘন ধোঁয়া দ্রুত বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের পর রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাঈন উদ্দিন খান জানান, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

এক হাজার শয্যার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। রোগীর স্বজনসহ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের সমাগম হয়।