জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কঠোর জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘আধিপত্যবাদী আচরণ’ ও ‘দম্ভের’ বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি ও চাপ দিয়ে ইরানকে নতিস্বীকার করানো সম্ভব নয়। সমান মর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনায় তেহরান প্রস্তুত থাকলেও শক্তি প্রয়োগ বা হুমকির ভাষা মেনে নেবে না ইরান।

ভাষণের শুরুতে তিনি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি স্কুলে হামলায় নিহতদের ছবি প্রদর্শন করেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আত্মরক্ষার পদক্ষেপকেও যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসবাদ’ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা হিসেবে চিহ্নিত করে।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি এবং সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের কোনো দেশ এককভাবে নিরাপদ থাকতে পারবে না; যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে না। তবে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার থেকেও তারা সরে আসবে না।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর জন্য অন্যান্য দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান।