ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে দেশটি।

বুধবার দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুথি ও ইরান-সমর্থিত অন্যান্য গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ওই অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের অনুরোধ করেছে রিয়াদ।

দুই কর্মকর্তার একজন জানান, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুতও কমেছে। সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিস্থিতিও রিয়াদকে অন্য মিত্রদের কাছে সহায়তা চাইতে উৎসাহিত করেছে বলে তিনি জানান।

এদিকে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে।

বুধবার সৌদি আরব অভিযোগ করে, হুথিরা ড্রোনের মাধ্যমে মক্কায় হামলার চেষ্টা করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সৌদি আরবের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলার পর দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। একই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।

এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবকে সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি দেশজুড়ে তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হচ্ছে।

তবে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগেও গুরুত্ব দিচ্ছে রিয়াদ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইয়েমেনে উত্তেজনা কমাতে ওমান ও মিসরের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক নিউ আমেরিকার ফেলো অ্যাডাম ব্যারনের মতে, বিষয়টি শুধু হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যকার সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তার সঙ্গেও এটি জড়িত।

এদিকে গত সপ্তাহের শেষ দিকে ওমান যুক্তরাষ্ট্র ও হুথি প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এপি।

মিত্রদের কাছ থেকে কূটনৈতিক সমর্থন পাওয়া গেলেও সামরিক সহায়তার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের কথা নিশ্চিত করলেও রিয়াদ সামরিক সহায়তা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতির কথা জানিয়েছিলেন। ফলে সৌদি আরবকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা মিত্র দেশগুলোর কতটা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।