জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নজরুলের সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি তাঁর সাম্য, মানবতা ও মুক্তচিন্তার দর্শনকে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাফেটেরিয়ায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গ্রন্থপ্রণেতা সরদার আবদুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ শাহাদাত হোসেন সরকার তাঁকে উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেন।

পরে সরদার আবদুর রহমানের লেখা প্রবন্ধ ‘নজরুল কেনো আমাদের জাতীয় কবি’ পাঠ করে শোনান প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক আফান মণ্ডল। প্রবন্ধটির বিষয়বস্তু, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং নজরুলের জাতীয় কবি হয়ে ওঠার তাৎপর্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন বাংলা বিষয়ের শিক্ষক, কবি ও লেখক মোসা. মাহফুজা খাতুন।

প্রবন্ধ পাঠ ও পরবর্তী আলোচনায় নজরুলের সাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনের ঐতিহাসিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। লেখকের নিজের সৃষ্টির পাঠ অন্যের কণ্ঠে শোনা এবং তা নিয়ে বিশ্লেষণ ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে লেখক-পাঠকের এক ভিন্নধর্মী মেলবন্ধন তৈরি হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরদার আবদুর রহমান বলেন, “নজরুলকে শুধু পাঠ করলে তাঁকে জানা যায়, কিন্তু নজরুলের চেতনায় প্রবেশ করতে হলে তাঁর মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। সেই চেতনাই তাঁকে আমাদের জাতীয় কবির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।”

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ শাহাদাত হোসেন সরকার বলেন, “নজরুল আমাদের কাছে শুধু একজন কবি নন; তিনি আমাদের সাহস, সাম্য, মানবতা ও মুক্তচিন্তার অনিঃশেষ প্রেরণা। নতুন প্রজন্ম নজরুলকে যত গভীরভাবে জানবে, ততই তারা নিজেদের মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করতে পারবে।”

আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি তাঁর লেখা সবগুলো বইয়ের একটি করে সৌজন্য কপি প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরির জন্য দেন। এ ছাড়া অধ্যক্ষকে আলাদাভাবে দুটি বই উপহার দেন তিনি।

আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের সংগীত বিষয়ের শিক্ষক ও শিল্পী ফারজানা আলী দিনা এবং দেশবরেণ্য নৃত্যশিল্পী আলো রাণী মৈত্রের নেতৃত্বে সংগীত ও নৃত্যের মনোজ্ঞ পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। নজরুলের গান, কবিতা ও সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় নজরুলের সৃষ্টির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য সুর ও ছন্দে ফুটে ওঠে। গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে কবির মানবিকতা, প্রেম, সাম্য ও চেতনার বিভিন্ন দিক নতুনভাবে উপস্থাপিত হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার তাদের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে উৎসাহ জোগাবে বলে আয়োজনে সংশ্লিষ্টরা জানান।

আলোচনা, প্রবন্ধ পাঠ, বিশ্লেষণ, সংগীত, নৃত্য ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নজরুল বর্ষের এ আয়োজন। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় কবির সাহিত্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবিক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।