প্রাথমিক শিক্ষার মান যাচাইয়ে কাগুজে রিপোর্ট ও দাপ্তরিক তথ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র এবং শিক্ষার্থীদের শিখনফলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বাস্তবে কতটা কার্যকর—এসবের ভিত্তিতেই গড়ে তোলা হবে নতুন মনিটরিং ব্যবস্থা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজশাহী পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘কাগজে ভালো রিপোর্ট নয়, শিক্ষার্থীর বাস্তব শিখনফলই হবে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড।’ মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে দাপ্তরিক প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে দেশব্যাপী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশের আট বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খুলনা, রংপুর ও ঢাকা বিভাগেও এসব কর্মশালা আয়োজন করা হবে।
রাজশাহী বিভাগের কর্মশালায় ববি হাজ্জাজ বলেন, সংস্কারের লক্ষ্য শুধু নতুন নির্দেশনা দেওয়া নয়; বরং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক মতামতকে কাজে লাগানো। বিদ্যালয় মনিটরিং, শিক্ষক ও প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, কারিকুলাম সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, অবকাঠামো, আসবাবপত্র এবং নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য বাথরুমসহ প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাগুজে রিপোর্টের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের প্রকৃত অবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের অর্জিত শিখনফলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি এবং সরকারের পাঁচ বছরের অঙ্গীকার বাস্তবায়নেও প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য প্রত্যেক শিশু বিদ্যালয়ে থাকবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষা পাবে।’ এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তাঁদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমেই আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও ফলাফলভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক, বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




