কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ১৫, মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনটির তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো হোটেল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সাত বাংলাদেশি হলেন—কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাঁদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলি (৬৪)। অন্য তিনজন হলেন ঢাকার সাভারের বাবু আহমেদ (৩৭), সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের রেবতী সরকার ও এস এম আলিমুজ্জামান। নিহতদের কেউ চিকিৎসার জন্য, আবার কেউ ভ্রমণে কলকাতায় গিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত দুই ভারতীয় হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান (১৯) ও শিলিগুড়ির যোগী নারায়ণ (৬৮)।
অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলের ভেতরে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ ছাদে উঠে যান, আবার কেউ নিচে নেমে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে তৃতীয় তলার আবাসিকদের অনেকেই তখন ঘুমিয়ে থাকায় বের হওয়ার সুযোগ পাননি। সংকীর্ণ প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তোলে।
খবর পেয়ে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে একাধিক গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি নিউমার্কেট, পার্ক স্ট্রিট ও তালতলা থানার পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে হোটেলের তৃতীয় তলার একটি বড় অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত নিউমার্কেট এলাকায় এমন মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।




