জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ৮ দফা দাবি কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দাবি নয়; এগুলো দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি। জনগণের এসব দাবি বাস্তবায়নেই তাঁরা মাঠে নেমেছেন।

শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি সাহস করে বলতে পারে না—গণভোট মানি না। তবে ইনিয়ে-বিনিয়ে বলে সংবিধানে গণভোট নেই। সংবিধানে যদি গণভোট না থাকে, তাহলে ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচনও নেই, কোনো সরকারও নেই। মানতে হলে সবটাই মানতে হবে, আর না মানলে সব বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। দেখা যাবে—কার বুকের পাটা কতটুকু।’

২০২৪ সালের গণবিপ্লব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান মেনে ওই গণবিপ্লব হয়নি। সংবিধানের বাইরে গিয়েই ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, প্রথম লংমার্চে ছয় দফা দাবি ছিল। দ্বিতীয় লংমার্চে আরও দুটি দাবি যুক্ত করা হয়েছে। ‘আল্লাহর কসম করে বলছি, এই দাবিগুলো আমাদের কোনো দলের নয়। এগুলো দেশের জনগণের—১৮ কোটি মানুষের দাবি,’ বলেন তিনি।

গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রংপুরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। জনগণ ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তিস্তা বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও সাত মাসেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি ভুলে গেলে তার পরিণতি ভালো হবে না। অতীতের সরকারের পথ অনুসরণ না করার জন্যও বর্তমান সরকারকে সতর্ক করেন তিনি।

দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এবং চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো রংপুরেও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট রয়েছে। তবে চাঁদাবাজি রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও তেলের সংকট নিরসন, দলীয়করণ ও দখলদারিত্ব বন্ধ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

এদিকে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা জিলা স্কুল মাঠে আসতে শুরু করেন। একপর্যায়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আশপাশের সড়কেও ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। লংমার্চ ঘিরে রংপুর মহানগর ও জেলা পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।