জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে—এমন গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, এনসিপি জোট ছাড়ছে—এমন কোনো বিষয় তাদের বা এনসিপির রাজনৈতিক আলোচ্যসূচিতে নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘যার বাড়িতে বিয়ে তার কোনো ঠেকা নাই, আর পাড়া-পড়শির ঘুম নাই।’
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় এনসিপি, জামায়াতসহ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত আমির বলেন, তাদের সমঝোতা কোনো স্থায়ী বা আনুষ্ঠানিক জোটের কাঠামো নয়; এটি একটি কার্যকর নির্বাচনী সমঝোতা। বর্তমানে জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তারা যুগপৎভাবে রাজপথে আন্দোলন করছেন।
অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে যে কোনো দলের নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। কারও ওপর জোর খাটানোর সুযোগ নেই। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করাই তাদের লক্ষ্য।
‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রস্তুতি
সরকারের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে বিরোধী দলের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এ নিয়ে ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শরিক দলের যোগ্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে থাকা অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান পেশাজীবীদেরও এতে যুক্ত করা হবে।
সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় আসনে উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, উন্নয়ন কোনো অনুকম্পা নয়; এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের উদাসীনতার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ টেকসই সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর সরকার সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে। সংকট সমাধানে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিরোধীদের রাজপথে নামতে হয়েছে।
এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথের ঐক্য অটুট থাকবে।
তিনি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকটসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে জনস্বার্থে রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
পরিদর্শনকালে জামায়াত, এনসিপি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




