রাজশাহী প্রতিনিধি :
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরী।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাটার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় নেতারা বলেন, “জনস্বার্থবিরোধী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি জসিম উদ্দীন সরকারের সঞ্চালনায় পথসভায় বক্তব্য দেন মহানগরীর নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, আইবিডব্লিউএফ রাজশাহী মহানগরীর সভাপতি সারোয়ার জাহান প্রিন্স, দাওয়াহ সেক্রেটারি হাফেজ নুরুজ্জামান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুস সামাদ ও জামায়াতের যুব বিভাগের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে ইমাজ উদ্দিন মন্ডল বলেন, “কার স্বার্থে তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, জনগণ তা জানে না। সম্প্রতি জনগণের ইচ্ছায় তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে। কোন জনগণের ইচ্ছায় তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে, জাতি তা জানতে চায়।”
তিনি বলেন, “তেলের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। সরকারের একটি অংশ ও বিগত সরকারের দোসররা এতে মদদ দিচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চল কৃষিনির্ভর। কৃষি উৎপাদন সচল থাকায় এসব অঞ্চল থেকে সারা দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কৃষকেরা সেচের জন্য তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় দফায় দফায় তেলের দাম বাড়ানো হলে দেশের কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও। একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায়ের জন্য তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। জনগণের বাঁচার বিষয়টি আগে বিবেচনা করা উচিত।”
আইবিডব্লিউএফ রাজশাহী মহানগরীর সভাপতি সারোয়ার জাহান প্রিন্স বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।” তিনি বিগত সরকারের সময়ের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও অর্থপাচারের অভিযোগ তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি পণ্যের দাম বাড়ানো নয়; এর সঙ্গে পরিবহন, কৃষি, উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের ব্যয় সরাসরি জড়িত। ফলে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে।”
তারা আরও বলেন, “জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের মতামত, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, “তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। এর ফলে শিল্প-কলকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে।”
সমাবেশ থেকে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় মহানগর জামায়াতের সহপ্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান আশু, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সুইট, রাজপাড়া থানা আমির নূরুল ইসলাম মনি, কাশিয়াডাঙ্গা থানা আমির ফরিদ উদ্দিনসহ মহানগর ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









