রাজশাহী প্রতিনিধি :
‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনো রেলওয়ের প্রতিপক্ষ হতে পারে না। কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা দূরত্ব তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।’—বলেছেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মদ হোসেন মাসুম।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী রেলস্টেশনে গত রাতের ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘কেন জানি মনে হচ্ছে, রেলওয়ে ভার্সেস স্টুডেন্ট—এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এটা রাজশাহীবাসীর জন্য দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনো কারও প্রতিপক্ষ হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা হবে। কোনো দূরত্ব বা পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যেন ঘটনা ঘটার আগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়, সে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

গত রাতের ভাঙচুর প্রসঙ্গে জিএম বলেন, ‘প্রথম দিকে বিষয়টি সমাধান হয়ে গিয়েছিল। পরে একজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর রেলস্টেশনে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যে ভাঙচুর হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরও একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভাঙচুরে রাষ্ট্রীয় সম্পদের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা সরেজমিনে দেখা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।’

ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাঙচুরের কারণে একটি ট্রেন যেতে পারেনি। এতে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। ট্রেনটিতে ছোট শিশুও ছিল। তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা হলে আমরা বসে আলোচনা করব। কারও ক্ষোভ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তবে সাধারণ যাত্রী ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

চার কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে জিএম বলেন, ‘শ্রমিক সংগঠন তদন্ত ছাড়া বরখাস্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও রেকর্ডের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’