:রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগর শাখা। ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও কোনোভাবেই কাম্য নয় উল্লেখ করে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী রেলস্টেশনে গতকালের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর উদ্ভূত ঘটনা পরিদর্শন করতে গিয়ে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম
তিনি বলেন, ‘গতকাল রেলস্টেশনে যে ঘটনাটি ঘটেছে, এটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। কোনোভাবেই আমরা এ ধরনের ঘটনা কামনা করি না। ঘটনার সূত্রপাত থেকে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, কেউ অপরাধ করে থাকলে তাকে আইনের আওতায় এনে আইনের কাছে সোপর্দ করতে হবে। কিন্তু এভাবে একজন ছাত্রকে মারধর করে কী বোঝানো হয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধৈর্যের সঙ্গে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি সুন্দরভাবে পর্যবেক্ষণ করে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে একজন ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করা অত্যন্ত দুঃখজনক। একইভাবে রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনাও কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
রাজশাহী থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর অন্যত্র স্থানান্তরের প্রসঙ্গ তুলে অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘যখন আমরা দেখি রাজশাহী থেকে বিভিন্ন দপ্তর অন্যত্র স্থানান্তর করা হচ্ছে, তখন রাজশাহীকে একটি বিশেষ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও ভেবে দেখা প্রয়োজন। রেলস্টেশনে ভাঙচুর যেমন কাম্য নয়, তেমনি আমাদের ছাত্র ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনাও মেনে নেওয়া যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, রাজশাহীতে যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি, সেই শান্তির পরিবেশ বজায় থাকুক। কেউ যদি রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকতে না দেওয়ার কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে রাজশাহীতে কোনো ধরনের উসকানি না দেওয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই।’
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির ড. মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘গতকালের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। একজন শিক্ষার্থীকে পেটানো অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। আমরা আশঙ্কা করছি, এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না। এজন্য আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আহত শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তারা।
রেলস্টেশন পরিদর্শনকালে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল, নায়েবে আমির ড. মো. জাহাঙ্গীর, মহানগর ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দিন এবং পবা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাফেজ নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে জামায়াত নেতারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গিয়ে রেলস্টেশনের ঘটনায় আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর খোঁজখবর নেন।




