‘ছাত্রদল আমাদের সঙ্গে পায়ে পা দিয়ে বিরোধে জড়াচ্ছে। তারা সেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি নতুন করে চালু করার চেষ্টা করছে।’ এমন মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখার সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আব্দুর রহিম।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে রাজশাহী শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

পদ্মা সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আব্দুর রহিম বলেন, ‘সারা দেশে ছাত্রদলের নৈরাজ্যের কারণে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের পর দেশটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল। ইসলামী ছাত্রশিবির সব ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে ইতিবাচক রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে রাজনীতি করছে। কিন্তু আমরা বরাবরই দেখছি, ছাত্রদল আমাদের সঙ্গে পায়ে পা দিয়ে বিরোধে জড়াচ্ছে। তারা সেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি নতুন করে চালু করার চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একসময় ছাত্রলীগের একক আধিপত্যের কারণে ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছিল। তখন সব ছাত্রসংগঠনের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। আমরা এখন দেখছি, ছাত্রদলও একই ধরনের কার্যক্রম করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ছাত্রদল যেভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তা থেকে ফিরে আসার জন্য আমরা তাদের প্রতি আহ্বান জানাই।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি এ কে এম সারওয়ার জাহান প্রিন্স। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ ও হাফেজ খায়রুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে ইমরান নাজির বলেন, ‘যখন ইসলামী ছাত্রশিবির বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে, তখন ছাত্রদল পেশিশক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে। ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সেখানে চাঁদাবাজি ও হল দখলের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এ কারণেই ছাত্রদল আমাদের ওপর হামলার পথ বেছে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ তারা পদ্মা সরকারি কলেজের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

ছাত্রদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। ছাত্রলীগ এ দেশের ছাত্রসমাজের ওপর জুলুম-নির্যাতন, হল দখল ও চাঁদাবাজির কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এ দেশের ছাত্রসমাজ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা ছাত্রদলকে বলতে চাই, আমরা ধৈর্যের শেষ সীমান্তে রয়েছি। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাই ছাত্রদলকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং একই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। নইলে আপনাদের পরিণতিও একই হবে।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের তিনজন এবং ছাত্রদলের দুইজন রয়েছেন বলে জানা গেছে।