পূর্বপুরুষের কাছ থেকে শেখা আদি পেশা ধরে রেখেছেন পবা উপজেলার অনেক মানুষ। তবে সময়ের সঙ্গে মানুষের চাহিদা ও বাজারব্যবস্থায় পরিবর্তন আসায় এসব পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের দক্ষতা বাড়ানো ও আধুনিক বাজারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ৩০ জন আদি পেশাজীবীকে দেওয়া হয়েছে ১০ দিনের সফট স্কিল প্রশিক্ষণ।

প্রশিক্ষণ শেষে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ, ১০ হাজার টাকা করে প্রশিক্ষণ ভাতা এবং ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের পেশার আধুনিকায়ন জরুরি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজেদের উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, আদি ও প্রান্তিক পেশাগুলো দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এসব পেশাজীবীর দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাঁদের কাজের বাজার ও আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। প্রশিক্ষণ ও অনুদানের সঠিক ব্যবহার তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি গ্রাহকসেবা ও যোগাযোগের বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পেয়েছেন। অনুদানের অর্থ নিজ নিজ পেশায় বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যাবে।

পবা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে কামার, কুমার, জুতা মেরামতকারী, নাপিত, লোকজ যন্ত্রশিল্পী, নকশিকাঁথা শিল্পী এবং বাঁশ-বেতের পণ্য প্রস্তুতকারীসহ ১০টি আদি পেশার ৩০ জন অংশ নেন।

১০ দিনের প্রশিক্ষণে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, সময়ের মূল্য, আচরণ ও সেবার মান উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সফট স্কিল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।