চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের মোটরসাইকেল থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই ও আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান নিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এসপি কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় একটি চেকপোস্টে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান আক্তারের মোটরসাইকেল থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পুলিশের দাবি, মোটরসাইকেলটির নিবন্ধন না থাকায় সেটি আটক করা হয়। এ নিয়ে ঘটনাস্থলেই পুলিশের সঙ্গে আক্তারের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
তবে মোটরসাইকেলটি নিবন্ধিত বলে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান আক্তার। তার অভিযোগ, প্রথমে মোটরসাইকেলের চাবি এবং পরে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এ ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ জানাতেই তারা এসপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর অর্ধশতাধিক ছাত্রদল নেতাকর্মী এসপি কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্যরা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অবস্থান চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা এবং ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছিল। মোটরসাইকেলটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। চেকপোস্টে টিএসআই উজ্জ্বল কুমার মোটরসাইকেলটি থামার সংকেত দিলে আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়। এর প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
তিনি আরও বলেন, সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন কিছুটা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করেন এবং পুলিশের সঙ্গে খারাপ ভাষায় কথা বলেন। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মীম ফজলে আজিম বলেন, পুরো ঘটনাটি ভুল-বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে। পরে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভুল ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি।







