রাজশাহীর টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মা নদীতে হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে জলোচ্ছ্বাসের মতো বড় বড় ঢেউ সৃষ্টি হয়ে কয়েকটি মাঝি ও জেলে পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নৌকা, মাছ ধরার জাল ও সরঞ্জাম হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়া এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর টি-বাঁধের বটতলা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ পদ্মা নদীতে পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে সমুদ্রের মতো বড় বড় ঢেউ সৃষ্টি হয়। এতে কয়েকটি নৌকা ভেসে যায় এবং আরও কয়েকটি নৌকা পানিতে তলিয়ে যায়। নৌকায় থাকা জাল ও মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জামও পানিতে ডুবে যায়।
নৌকা রক্ষা করতে গিয়ে ওই রাতে রিমোন হোসেন ও তাঁর স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন।
আহত রিমোন হোসেন বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে হঠাৎ দেখি, পদ্মায় সমুদ্রের মতো বড় বড় ঢেউ উঠছে। বাড়ির সামনে শাহজামাল মাঝির নৌকা ছিল। নৌকাটি ভেসে যেতে দেখে আমি ও আমার স্ত্রী সেটি আটকানোর চেষ্টা করি। তখন নৌকার ধাক্কায় আমার পা ভেঙে যায়। আমি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।’
মাঝি শাহজামাল বলেন, ‘হঠাৎ এত বড় ঢেউ উঠবে, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। জারজিস মাঝির একমাত্র নৌকাটি রক্ষা করা যায়নি।’
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত বুধবার রাতে হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসের ফলে পদ্মার টি-বাঁধ এলাকার মাঝি ও জেলে পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নিতে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পবা উপজেলার মধ্যচরে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।









