রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির কারূশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনায় আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চোরচক্রের সাত সদস্য ও চোরাই মালামাল কেনার সঙ্গে জড়িত এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি চোরচক্র সাহেববাজার এলাকায় কারূশ্রী জুয়েলার্সের সামনে অবস্থান নেয়। তারা বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসিয়ে কৌশলে জটলা সৃষ্টি করে পাশের একটি স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে কারূশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে দোকানে ঢুকে সিন্দুক থেকে আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা, তিন বক্স স্বর্ণের নাকফুল ও নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় কারূশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। পরে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিট সমন্বিতভাবে তদন্ত শুরু করে চোরচক্রকে শনাক্ত করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চক্রটি বছরে এক থেকে দুইটি বড় ধরনের চুরি করে। কোনো চুরির আগে তারা তিন থেকে চার মাস ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকা পর্যবেক্ষণ করে এবং অপরাধ সংঘটন ও নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার কৌশল নির্ধারণ করে। কারূশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় চার মাস আগেও চক্রের সদস্যরা এলাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে ব্যবসার কথা বলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে বাগেরহাটের মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের মো. ফজলুল হকের ছেলে মো. রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের লবণচড়া থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ সেপ্টেম্বর চোরাই মালামাল কেনার সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. রবিউল হাসানকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া থানার সরকারবাড়ী বাজনীখোলা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার সবুজবাগ থানার পাবনাগলি এলাকায় বসবাস করেন।

পুলিশ জানায়, রবিউল হাসানের ‘আরাফাত হাসান জুয়েলার্স’ থেকে চোরাই মালামাল বিক্রির ২৬ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ণ ও রুপা বিক্রির নগদ ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার আসামি উজ্জলসহ অন্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার কোতোয়ালি থানার তাঁতীবাজার স্বর্ণপট্টিতে অভিযান চালিয়ে আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৩১ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং স্বর্ণ ও রুপা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Available next action: